Home   |   About   |   Terms   |   Contact    
RiyaButu
A platform for writers

লুকানো চিঠির রহস্য


ত্রিপুরার বাংলা গোয়েন্দা গল্প


All Bengali Stories    30    31    32    33    34    35    (36)     37      

-হরপ্রসাদ সরকার, ধলেশ্বর - ১৩, আগরতলা, ত্রিপুরা ( পশ্চিম )




লুকানো চিঠির রহস্য
( ত্রিপুরার বাংলা গোয়েন্দা গল্প )
রাজবংশী সিরিজের চতুর্থ গোয়েন্দা গল্প
- হরপ্রসাদ সরকার, ধলেশ্বর-১৩, আগরতলা
১৭-১০-২০১৮ ইং


আগের পর্ব গুলি: ১ ম পর্ব   


◕ লুকানো চিঠির রহস্য
২ য় পর্ব



◕ A platform for writers Details..

◕ Story writing competition. Details..

মিঠুন কিছুক্ষণ বেকুবের মত পড়ে রইল সেই উতলার মাঝে। মিঠুন-ওস্তাদকে চেনার কোনও উপায় নেই। বিশ্বাসই হচ্ছে না, এ কী হয়ে গেল সকাল-সকাল? অনেক কু-ভাবনা একে-একে নাচতে লাগল মাথায়। সে মনে-মনে ভাবতে লাগল, "আজ তো আমার আর কোনও ইজ্জতই রইল না। ইজ্জত ছাড়া এক দাদা-গুণ্ডার আর কী আছে? এবার থেকে ছোকরা-রা কী ভাববে আমাকে? হারামজাদা বরিদ্দা, তার কাছেও তো তার কোনো ইজ্জত বাকি রইল না। ঐ মোটর সাইকেলের দু'জন লোক; ওরা নিশ্চয়ই খুব হাসছে আমার উপর। হায়-হায়, এ কী হয়ে গেল? কত সহজে হেরে গেলাম এক রিক্সা-ড্রাইভারের কাছে? মিঠুন-ওস্তাদকে কত সহজে হারিয়ে দিল অতি সামান্য এক রিক্সা-ড্রাইভার? হায়-হায়!"

এই কলঙ্ক ঢাকতে বুঝি এখান থেকেই তার পালিয়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু না, সে যদি পালিয়ে যায়, তবে সবাই কাপুরুষ ভাববে। এই অপমান, এই লজ্জা, এই কলঙ্ক না সে পারবে রাখতে, না পারবে বইতে, না পারবে ছাড়তে, না পারবে সইতে। ক্রমে তার মনে বরিদ্দার উপর প্রচণ্ড আক্রোশ জ্বলে উঠল। সাত-পাঁচ, আগ-পিছ কোনও কিছুই বিচার না করে দৌড়ে সে উপরে উঠে এল আর বরিদ্দাকে পাগলের মত চড়-কিল-ঘুষি মারতে লাগল। মুহূর্তের মধ্যে ঐ স্থানটি রণক্ষেত্র হয়ে গেল। ঠিক এমন সময় হঠাৎ বজ্রের মত 'চটাস' করে একটা কষা-চড় নেমে এল মিঠুন-ওস্তাদের গালে। ছেবরা খেয়ে উঠল মিঠুন। ওটা চড়, কিল না-কি ঘুষি, কিছুই বুঝতে পারল না সে। চড়টা তার ঘিলু নাড়িয়ে দিল, দাঁত কপাটি যেন চুরমার হয়ে গেল। অন্যকে মারতে গিয়ে নিজেই এমন ভাবে মার খাবে, এটা সে ভাবতেই পারেনি, স্বপ্নেও ভাবে নি। চড় খেয়ে সে ক্যাবলার মত শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল উঁচা, লম্বা, ছিপ-ছিপে গড়নের সুন্দর সেই লোকটির দিকে। লোকটির চোখ আগুনের মত দাউ-দাউ জ্বলছে। দাঁত কট-মট করে লোকটি বলল, "অনেকক্ষণ ধরে তোর লীলা-খেলা দেখছি। ঠিক মত একটা চড় খেলে ফিট হয়ে পড়ে থাকবি, তার উপর আবার মস্তানি দেখাচ্ছিস? দাঁত সব ফেলে দেব চড় মেরে, হারামজাদা।" এই বলে সে চোখ ঘুরিয়ে সাগরেদদের দিকে তাকাতেই সাগরেদরা ফুড়ুত-ফারুত করে চোখের পলকে ঝোপ-ঝাড়ের আড়ালে পালিয়ে গেল।

সম্বিত ফিরে পেয়ে মিঠুন গায়ের জোড়ে চিৎকার শুরু করল, "এই মনা, এই বইলা, ছুরিটা নিয়ে আয়। বড় ছুরিটা আন, ছোটটাও আনবি। ওকে এখনই উপরে পাঠাব। .." কথা শেষ হওয়ার আগেই আরেকটা বেশ শক্ত, কষা-চড়, অপর গালে। ঝোপ-ঝাড়ের পিছনে এবার সত্যিই দৌড়া-দৌড়ী শুরু হয়ে গেল। সাগরেদরা আছাড়-বাছার খেতে-খেতে যে যার দিকে পালাতে লাগল। অবস্থা এমন দাঁড়াল, ওস্তাদ ছেড়ে ভক্তরা কার আগে-কে পালায়। ঝোপ-ঝাড়ের আড়ালে হুড়াহুড়ি পড়ে গেল।



ভক্তদের কাছ থেকে যখন কোনও সাহায্য এল না তখন মিঠুন লোকটিকে নিজ পরিবারের ভয় দেখাতে লাগল। সে পরিবারের বখান শুরু করল; বাপ-দাদার ইতিহাস। প্রচণ্ড রাগে তার গলা, গাল, ঠোট থর-থর করে কাঁপছে। গলা দিয়ে সকল শব্দ সম্পূর্ণ বের হয়ে আসছে না, আধা-আধা বের হচ্ছে। এমত অবস্থায় সে চীৎকার করে বলতে লাগল, " এখুনি মিথ্যু কেসে তোকে আমি জেলে ভরে দেব। তুই জানিস ন, আমার বাপ পুলি, আমার জেঠ পুলি, আমার কাক পুলি, আমার দাদ পুলি।" কথা শেষ হতে না-হতেই, আবার কষা দুই চড়,"তোর বাপ-দাদার ইতিহাস শোনাচ্ছিস? ভেবেছিস তাদের আমি ভয় পাই? বদমাশ! বাপ-দাদার ভয় দেখিয়ে দাদাগিরি করছিস? ডাকে আন তোর বাপ-দাদাকে! দেখি একবার?"

ক্ষেপা ষাঁড়ের মত হাঁপাতে-হাঁপাতে মিঠুন বলল, "দাঁড়া! দেখাচ্ছি মজা! এখুনি সব পুলিশকে ডেকে আনছি। তোকে যদি জেলে ঠুসে না দিচ্ছি তবে আমার নামও মিঠুন নয়," এই বলে সে পকেট থেকে মোবাইল ফোনটা বের করে নিজের প্রিয় দাদাকে ফোন করে ভউ-ভউ করে কেঁদে উঠল আর বলতে লাগল, "দাদা, আমাকে বাঁচা। একটা লোক আমাকে খুব মারছে ... শালবাগানের ধারে ... কাজুবাদাম ক্ষেতের পাশে ... তাড়াতাড়ি আয়!" ফোনটা রেখে চোখ মুছতে-মুছতে সে হুঙ্কার দিয়ে উঠল, "আসছে, আসছে, তোর বাবারা আসছে, এবার বুঝবি মজা! পুলিশের জুতা আর বেল্টের বাড়ি খেয়ে-খেয়ে তোর হাড়-গুড় যতক্ষণ না ভাঙ্গবে ততক্ষণ আমার মনের জ্বালা জোড়াবে না। শালা বরিদ্দা, তুইও এবার ছাড়া পাবি না। এতক্ষণ খুব মজা দেখছিল, না! এবার টের পাবি। তোকে তো আজ জেলের ভাত খাইয়েই আনব। শালা বরিদ্দা।"

গরিব বরিদ্দা এবার সত্যি-সত্যি ভয় পেয়ে গেল। ঘটনাটি এত দূর পর্যন্ত গড়াবে, ভাবেনি। সে গরিব মানুষ। ঘরে বৌ আছে, ছোট-ছোট ছেলে-মেয়েরা রয়েছে। একমাত্র তার রোজগারেই ঘর চলে। তাকেই যদি জেলে যেতে হয়, তখন ছোট-ছোট ছেলে-মেয়েদের কী হবে? তাদের কথা ভেবে তার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল। সে জল ভরা চোখে ঐ লোকটির কাছে গিয়ে হাত জোর করে অতি কাতর কণ্ঠে বলল, "বাবু, যা হবার হয়ে গেছে। ঘটনাটি এখানেই রেখে দিন, আর এগিয়ে যেতে দেবেন না। আমরা দোষী-কি-নির্দোষ, সে বিচার তো পরে হবে, তার আগেই তো উকিল-আদালতের চক্কর কাটতে-কাটতে আমরা শেষ হয়ে যাব। আমার মহান দেশটা এমনই বাবু; এখানেই সবাই বড় কথা বলে, কিন্তু কাজ খুব কম লোকই করে। তাই ঘটনাটিকে এখানেই শেষ করে দিন। আমি সাক্ষী আর ভগবান সাক্ষী; আপনি একদম ঠিক ছিলেন, উচিত ছিলেন। কিন্তু এটা কলি যুগ; উচিতের দাম কম, ভাত নাই। তাই আপনার কাছে আপনার ছোট ভাইয়ের মত হাত জোর করে বলছি, ওর কাছে ক্ষমা চেয়ে, মাপ চেয়ে, সব মিট-মাট করে নিন, আর এখুনি এখান থেকে পালিয়ে যান। আমিও চলে যাই। আপনি জানেন না, ওর পরিবারে অনেক পুলিশ, কেউ না-কেউ আমাদের মিথ্যা অপরাধে ঠিক জেলে পুরে দেবেই-দেবে। তাই -"

বরিদের কথা শুনে লম্বা লোকটি মুচকি হেসে বলল, "হুঁ, বুঝলাম। কিন্তু এই মাত্র তুমিই তো বললে, তুমি আমার ছোট ভাইয়ের মত। তাহলে বড় ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে ভয় কেন? বড় ভাই পাশে থাকতে কিসের ভয়? তোমার কোনও ভয় নেই। কোনও অফিস-আদালত হবে না; নিশ্চিন্ত থাক। আমি কথা দিচ্ছি, তোমার সব দোষ আমি আমার মাথায় নিয়ে নেব, তোমাকে কিছু হতে দেব না। সত্যিই তোমার কোন ভয় নেই, তুমি নিশ্চিন্ত থাক। আসতে দাও ওর বাপ-দাদাকে, আমিও একবার দেখে নিই।"

"কিন্তু -"

বরিদকে থামিয়ে দিয়ে লোকটি হাসি মুখে বরিদের পিঠ চাপরে দিল। লোকটি বরিদের পিঠে হাত রাখতেই বরিদের সারা শরীর যেন কেঁপে উঠল, যেন একটি বিদ্যুৎ দৌড়ে গেল তার শিরায়-শিরায়। এক অসীম দৈব সাহস, পরম আত্মবিশ্বাস ছুটতে লাগল তার ধমনীতে। এতদিন এই সাহস, এই আত্মবিশ্বাস কই ছিল? বরিদ মুখ তুলে ভাল করে লোকটির চেহারার দিকে তাকাল। বেশ জাঁদরেল চেহারা, তবু যেন চেহারায় একটা পবিত্রতার, সততার, স্নিগ্ধতার ভাব। চোখ দুটি হিংস্র বাঘের মত হিংস্র, অঙ্গারে পূর্ণ; তবু যেন খুব মায়াময়, বুদ্ধিদীপ্ত। তার ঐ মৃদু হাসির পিছনে যেন একটি ঝড় ছুটে চলছে; ভাল করে না তাকালে দেখা যায় না। বরিদ মনে-মনে ভাবে, "না! এই লোকটি তো সাধারণ লোক নয়। মনে হচ্ছে এক মায়াময় জাদুকর। না-না, উনাকে একলা ছাড়া যাবে না। একবার যখন পেয়েছি তখন আর কোনও ভাবেই উনার সঙ্গ ছাড়ব না। পুলিশ কী করবে না-করবে, সে পরের কথা; মারবে - মারুক; জেলে ভরে দেবে - দিক; তবু আমি এই লোকটির পক্ষই নেব। জাদা-সে-জাদা কী হবে; আমার বৌ-বাচ্চা কিছুদিন কষ্ট পাবে; পাক। তবু ঐ দুষ্ট রাবণের দশ মাথাকে আজ ছিন্ন-ভিন্ন করে দেব; এটাই তো সুযোগ। হ্যাঁ, এটাই সুযোগ, আজকেই সুযোগ। এই সুযোগ হাত ছাড়া করা যাবে না, তাহলে তো আমি কাপুরুষ। না-না, আমি কখনোই কাপুরুষ নই।" বীরত্বের মহান সূর্য উঁকি দিল বরিদের মনে। মন থেকে সব ডর, ভয় চলে গেল। মনের ভয়-রস, বীর-রসে বদলে গেল। সে চোখের জল মুছে পর্বতের মত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে গেল সেই লোকটির পাশে। মনে-মনে বলল, "আজ আমিও দেখে নেব?" ঠিক এমন সময় বেশ কিছু পুলিশ নিয়ে একটি পুলিশের-জীপ ওখানে এসে থামল। পিছন-পিছন আরও চার-পাঁচটি মোটর-সাইকেলে সাদা পোশাকের পুলিশ। সবাই খুব উত্তেজিত। সবার মনের ভাবনা, "দেখি, কার এত সাহস, আমরা থাকতে শালবাগান এসে আমাদের মিঠুনকে মেরে যাবে? আজ জ্যান্ত রাখব না, হাড়-গুড় ভেঙ্গে লক-আপে পুরে দেব।"

Next Part   


◕ A platform for writers Details..

◕ Story writing competition. Details..




◕ This page has been viewed 851 times.


আগের পর্ব গুলি: ১ ম পর্ব   


রাজবংশী সিরিজের অন্য গোয়েন্দা গল্প:
মাণিক্য   
সর্দার বাড়ির গুপ্তধন রহস্য   
প্রেমিকার অন্তর্ধান রহস্য   


All Bengali Stories    30    31    32    33    34    35    (36)     37